মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১০

জীবন

চারিদিকে বাড়ন্ত স্বপ্নরা হাসে, হতাশার ছবি আঁকা আমার এ বুকে।
চায়ের কাপ হাতে প্রতিদিন ভাবি, আমার এ জীবনটা ছাঁই মাখা আকাশের ছবি

মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১০

দেড়শো বিশ

এবার ঈদে পা ভেঙ্গে যাবার কারনে গ্রামের বাড়িতে যেতে পারিনি। তাই মায়ের কবরটাও দেখতে পারিনি। মনটা তাই ভাল ছিল না। দুদিন আগে আমার জন্মদিন ছিল। ভেবেছিলাম এবার জন্মদিনে মায়ের সাথে দেখা করে আসব। কিন্তু ইউনিভার্সিটির এক বেরসিক স্যার সেইদিন পরীক্ষা দেয়ে বসলেন। তাই আর গ্রামে যাওয়া হল না। মায়ের সাথে দেখা করাও হল না। মেজাজটা আরো খারাপ হয়ে গেল। 
অগ্যতা পরীক্ষা শেষ করেই গ্রামে যেতে হল। গ্রামের সরল মানুষগুলো আমাকে এত পছন্দ করে দেখতে ভালই লাগে। কেন পছন্দ করে জানি না। বরাবরের মত এবারো মায়ের সাথে আমি একা একাই বেশ অনেক্ষন বকবক করলাম। একতরফা ভালোবাসার মত একতরফা কথা। যার কোন মানে নেই। 
বিকেলবেলা যখন চলে আসব, তখন দেখা হয়ে গেল আমাদের গ্রামের বিজ্ঞ এক চাচার সাথে। উনি অত্যন্ত ভাল একজন মানুষ। কিন্তু উনার সমস্যা হল উনি কথা একটু বেশী বলেন। শুধু বেশী না অতিরিক্ত বেশী। আমার থেকেও বেশী বলেন। লক্ষ করলাম উনার হাতে বড় এক ইলিশ মাছ। সম্ভবত বাজার করে আসছিলেন। উনাকে দেখে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইলাম, কিন্তু তা সম্ভব হল না। উনি আমাকে দেখে মাছ হাতে নিয়েই আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। মাছ আমার শরীর স্পর্শ করল কিনা ঠিক বুঝতে পারলাম না।
কথা শুরু করে দিলেন। অনেক্ষন কথা চলতে থাকল। কিছুতেই কথা শেষ হচ্ছে না। এদিকে সন্ধা হয়ে আসছিল। শেষে বাধ্য হয়ে আমাকেই বলতে হল চাচা এবার আমাকে যেতে হবে। একথা শুনে অবশেষে তিনি বিদায় দিলেন। বিদায় নিতে নিতে প্রশ্ন করলাম চাচা অনেক বড় মাছ কত হল?
উনি বেশ তৃপ্তি নিয়ে হাসি মুখে উত্তর দিলেন দেড়শো বিশ। তারপর উনি চলে গেলেন। প্রথমে কিছুই বুঝলাম না। বেশ অনেক্ষন চিন্তা করার পর বুঝলাম, দেড়শো বিশ অর্থাত মাছটির দাম হল ১৭০ টাকা। হাঃ হাঃ হাঃ......
বাসে করে যখন ঢাকায় ফিরছিলাম আমার পাশের ভদ্রলোকটি বার বার আমার দিকে কেমন করে যেন তাকাচ্ছিলেন। মনে হয় মাছের গন্ধ উনার সহ্য হচ্ছে না।

মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১০

পোকা

গুচ্ছ গুচ্ছ পোকারা মাঝ রাতে জমাট বেঁধেছে এক অজানা উন্মাদনায়। এত রাতে ওরা এমন করছে কেন? নিশ্চই এর কোন না কোন অর্থ আছে, কিন্তু আমি জানি না। আর জানতেও চাই না। কারন কিছু কিছু কাজ আছে যার অর্থ না বোঝা ভালো।

শনিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১০

Journal জয়নাল এবং আমাদের রিজন......


বলছি আমার ফুপাতো ভাইয়ের কথা, নাম তার রিজন। ও আমার বছর দুয়েকের ছোট হবে। আমি ওকে পাগলা বলে ডাকি। বেচারা আমার খুবই ভক্ত। এজন্য আমার বোন আমাকে প্রায়ই বলে, তুই একটা পাগল আর তাই তোর ভক্তরাও সব পাগল। হতে পারে, কারন আমার কর্মকান্ডও খুব একটা স্বাভাবিক না। সে যাই হোক, আমার কথা অন্য কোন সময় হবে। বলছিলাম আমার ভাই রিজনের কথা। আমার এই ভাইটা একটু কেমন যেন। নানারকম অদ্ভুত কর্মকান্ড বরাবরই সে করে থাকে। তার কিছু   এখন আপনাদের বলবো।  
ছোট বেলায় একবার গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম ঈদ করতে। বিকেলের দিকে সব ভাইবোন মিলে খেলা করছিলাম আমাদের বাড়ির উঠানে। হটাৎ পাশের ঘর থেকে দাদু , ফুপু  ও ফুপার হৈ চৈ শুনে আমরা সবাই সেখানে গেলাম। ততক্ষনে আমার বাবা মা সহ অন্যান্য সবাই সেখানে চলে এসেছে। ঘটনা গুরুতর বুঝতে পেরে আমি একটু সামনের দিকে তাকাতে দেখি, রিজন একটি চেয়ারের ভিতর মাথা ঢুকিয়ে অদ্ভুদ ভাবে বসে বসে চিৎকার করছে। ফুপুকে জিজ্ঞেস করতে ফুপু বলল, আরে আমাদের পাশে খাটে বসেই খেলছিল, কখন নীচে নেমে চেয়ারের ভিতর মাথা ঢুকিয়ে দিয়েছে। এখন মাথাতো কিছুতেই বের করা যাচ্ছে না। এ কথা শুনে আমিতো সেখানেই হোঃ হোঃ করে হেসে দিলাম। তারপর করাৎ দিয়ে চেয়ার কেটে ওর মাথা বের করা হয়েছিল। হাঃ হাঃ......

এই হল রিজন। এরকম আরো নানরকম অদ্ভুত কীর্তি আছে ওর। ও এখন বড় হয়েছে। পড়ালেখায় অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে কিছুদিন হল একটি কলেজের বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হয়েছে। ঈদের ছুটি পাওয়ায় কিছুদিন আগে আমাদের বাসায় এসেছিল। এসেই তার ভুবন ভোলানো হাসি দিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলো, কেমন আছ ভাইয়া? বললাম ভালো আছি। উত্তরটা শুনে একটা  স্বস্তির ভাব ওর চোখে মুখে দেখতে পেলাম। কথায় কথায় জিজ্ঞেস করলাম -
তোর কলেজ লাইফ কেমন চলছে?
ভালইতো......। বললাম Good.
তো এখন কোন কোন বিষয় পড়াচ্ছে............??
ও বলল, accounting, management..... ইত্যাদি।
এরপর আমি জিজ্ঞেস করলাম accounting কি করাচ্ছে? Journal করানো শুরু করেছে? 
এ প্রশ্নে ও খুবই স্বাভাবিক ভাবে বলল, না, আমাদের তো এখন জাবেদা করাচ্ছে আর জয়নাল নামে এখনও কিছু শুরু করেনি। 
এ উত্তরটা শোনার পর আমার হাসি আর কিছুতেই চেপে রাখতে পারলাম না। পরে পুরো ব্যাপারটা ওকে খুলে বলার পর ও নিজেও কিছুক্ষন হেসে বলল, ও আচ্ছা এই ব্যাপার, এটাতো আমি আসলে জানতাম না। 
এখন আমি ওকে জয়নাল নামেই ডাকি আর এ নামটা রিজন নিজেও খুব  উপভোগ করে।

শুক্রবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১০

কিছু অর্থহীন কথা

"প্রতি পূর্ণিমার মধ্য রাতে একবার আকাশের দিকে তাকাই 
গৃহত্যাগী হবার মত জোছনা কি উঠেছে.......?
আমি গৃহত্যাগী জোছনার জন্য বসে আছি।
যে জোছনা দেখামাত্র গৃহের সমস্ত দরজা খুলে যাবে -
ঘরের ভেতর ঢুকে পড়বে বিস্তৃত প্রান্তর ।
প্রান্তরে হাঁটব, হাঁটব আর হাঁটব -
পূর্ণিমার চাঁদ স্থির হয়ে থাকবে মধ্য আকাশে। 
চারিদিক থেকে বিবিধ কণ্ঠ ডাকবে - আয় আয় আয়".....................

উপরোক্ত কবিতাটি আমার লেখা নয়। আমি কোন কবি বা লেখক নই। লেখালিখি করার জন্য যে পরিমাণ দক্ষতার প্রযোজন তার বিন্দু পরিমান মেধা আমার নেই। তবু আমি লিখতে ভালবাসি  এবং লেখালিখির চেষ্টা করি। আমার এ ব্লগটিতে আমি যখন লিখতে শুরু করি তখন এর কোন উদ্দেশ্য ছিল না, এখনোও নেই। হয়ত আমি এ লেখালিখি করি আমার নিজের জন্য। আমার লেখার কোন বিষয়বস্তু নেই। যখন যা মন চায় তা নিয়েই আমি লেখালিখি শুরু করে দিই। আগে লিখতাম ডাইরি আর এখন ব্লগ, পার্থক্য এতুটুকু। আমার লেখাকে অনেকটা জগাখিচুরির সাথে তুলনা করা  যেতে পারে। আমার নির্দিষ্ট কোন পাঠকও নেই। অবশ্য আমার কিছু বন্ধু আছে যারা মাঝে মাঝে আমার লেখা পড়ে থাকে। কিন্তু ওরা আসলে খুব উদার টাইপের মানুষ। বরাবরই ওরা আমার  লেখা পড়ে মুখস্ত একটি কথা বলে থাকে, আর তা হল খুব ভালো হয়েছে বন্ধু। কিন্তু সত্যি কথা হল, আমার লেখা আমি নিজেই কখনোও  বুঝি না। আমার এই ব্লগের নাম দিয়েছি "ছেড়াপালক"। আমার ছন্নছাড়া জীবনের সাথে মিল রেখে এই নামকরণ। আমার অতি নিম্ন মানের লেখা গল্প, কবিতা বা ছড়ার সাথে আমার বন্ধুরা পরিচিত হলেও আমার অপরিচিত বন্ধুরা কেউ পরিচিত নন। তাই আমার অপরিচিত বন্ধুদের বলছি, ভুল করেও আমার লেখা  কিছু পড়ে আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করবেন না। আর যদি সময়  নষ্ট করেই  ফেলেন তবে দয়া করে আপনারা আমার উদার টাইপ বন্ধুদের মত আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। আসলে ক্ষমা পেতে পেতে আমার অভ্যাস খারাপ হয়ে গেছে।