বলছি আমার ফুপাতো ভাইয়ের কথা, নাম তার রিজন। ও আমার বছর দুয়েকের ছোট হবে। আমি ওকে পাগলা বলে ডাকি। বেচারা আমার খুবই ভক্ত। এজন্য আমার বোন আমাকে প্রায়ই বলে, তুই একটা পাগল আর তাই তোর ভক্তরাও সব পাগল। হতে পারে, কারন আমার কর্মকান্ডও খুব একটা স্বাভাবিক না। সে যাই হোক, আমার কথা অন্য কোন সময় হবে। বলছিলাম আমার ভাই রিজনের কথা। আমার এই ভাইটা একটু কেমন যেন। নানারকম অদ্ভুত কর্মকান্ড বরাবরই সে করে থাকে। তার কিছু এখন আপনাদের বলবো।
ছোট বেলায় একবার গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম ঈদ করতে। বিকেলের দিকে সব ভাইবোন মিলে খেলা করছিলাম আমাদের বাড়ির উঠানে। হটাৎ পাশের ঘর থেকে দাদু , ফুপু ও ফুপার হৈ চৈ শুনে আমরা সবাই সেখানে গেলাম। ততক্ষনে আমার বাবা মা সহ অন্যান্য সবাই সেখানে চলে এসেছে। ঘটনা গুরুতর বুঝতে পেরে আমি একটু সামনের দিকে তাকাতে দেখি, রিজন একটি চেয়ারের ভিতর মাথা ঢুকিয়ে অদ্ভুদ ভাবে বসে বসে চিৎকার করছে। ফুপুকে জিজ্ঞেস করতে ফুপু বলল, আরে আমাদের পাশে খাটে বসেই খেলছিল, কখন নীচে নেমে চেয়ারের ভিতর মাথা ঢুকিয়ে দিয়েছে। এখন মাথাতো কিছুতেই বের করা যাচ্ছে না। এ কথা শুনে আমিতো সেখানেই হোঃ হোঃ করে হেসে দিলাম। তারপর করাৎ দিয়ে চেয়ার কেটে ওর মাথা বের করা হয়েছিল। হাঃ হাঃ......
এই হল রিজন। এরকম আরো নানরকম অদ্ভুত কীর্তি আছে ওর। ও এখন বড় হয়েছে। পড়ালেখায় অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে কিছুদিন হল একটি কলেজের বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হয়েছে। ঈদের ছুটি পাওয়ায় কিছুদিন আগে আমাদের বাসায় এসেছিল। এসেই তার ভুবন ভোলানো হাসি দিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলো, কেমন আছ ভাইয়া? বললাম ভালো আছি। উত্তরটা শুনে একটা স্বস্তির ভাব ওর চোখে মুখে দেখতে পেলাম। কথায় কথায় জিজ্ঞেস করলাম -
তোর কলেজ লাইফ কেমন চলছে?
ভালইতো......। বললাম Good.
তো এখন কোন কোন বিষয় পড়াচ্ছে............??
ও বলল, accounting, management..... ইত্যাদি।
এরপর আমি জিজ্ঞেস করলাম accounting কি করাচ্ছে? Journal করানো শুরু করেছে?
এ প্রশ্নে ও খুবই স্বাভাবিক ভাবে বলল, না, আমাদের তো এখন জাবেদা করাচ্ছে আর জয়নাল নামে এখনও কিছু শুরু করেনি।
এ উত্তরটা শোনার পর আমার হাসি আর কিছুতেই চেপে রাখতে পারলাম না। পরে পুরো ব্যাপারটা ওকে খুলে বলার পর ও নিজেও কিছুক্ষন হেসে বলল, ও আচ্ছা এই ব্যাপার, এটাতো আমি আসলে জানতাম না।
এখন আমি ওকে জয়নাল নামেই ডাকি আর এ নামটা রিজন নিজেও খুব উপভোগ করে।