শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৪

ডাইরী থেকে: হিমু এবং আমি

আমি  আসিফ।  কিন্তু আমি যদি আমার প্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদ এর সৃষ্টি “হিম” হয়ে সত্যিকার ভাবে জন্ম নিতাম। তাহলে খুবই ভাল হত। যদিও হিমুর সব কাজকর্ম বেশ অদ্ভুদ এবং অস্বাভাবিক। তাতে অবশ্য আমি সমস্যার কিছু দেখি না। আমার তো মনে হয় এসব অদ্ভুদ কাজ কর্মের জন্যই হিমু সকলের নিকট অত্যন্ত পছন্দের।

আমিও চাই সব শ্রেণীর মানুষ আমাকে ভালবাসুক। আমি হিমুরূপী আসিফ হয়ে কি সেই সব কাজ করতে পারি না, যা হিমু খুব সুন্দরভাবে সম্পাদিত করে মানুষকে আনন্দ দেয়। আমি অবশ্যই পারি – কোন এক পূর্ণীমার রাতে হলুদ পাঞ্জাবী পড়ে খালি পায়ে ফুটপাতের উপর এক বৃদ্ধ বা বৃদ্ধার পাশে বসে তার সাথে শুকনো মরিচ দিয়ে পান্তা ভাত খেতে। যদি পারি তাহলে কেন আমি এই কাজগুলো করছি না? কেন আমি অন্য সবার মত ঘরে বসে মশারির ভেতর ডেজ্ঞু মশা খুঁজছি? এর উত্তর হয়ত আমারও জানা নেই।


তবে আমি হয়ত খুব তাড়াতাড়ি কোন এক ভরা পূর্ণিমায় রাস্তায় নেমে চিৎকার করে বলতে পারবো – হে মানবজাতি, তোমরা একদিনের জন্য হলেও সবাই সবাইকে ভালবাস। দেখবে, সেদিন পৃথিবীর কোথাও কোন দূর্ঘটনা ঘটবে না। আর তা যদি না পারো তাহলে সবাই বনে চলে যাও এবং হিংস্র পশুর সাথে বসবাস কর। তাহলেই দেখতে পাবে তোমরা হচ্ছো মানূষরূপী পশু। দেখতে পাবে তাদের সাথে তোমাদের কোন পার্থক্য নেই। তোমরা সৃষ্টির সেরা জীব নয়। 

আমার ডাইরী
০৩/০১/০৩


শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৩

ডাইরী থেকে: ইংরেজি নববর্ষ



এসো ভুলে যাই দুঃখ
এসো ধরি হাত
হে নতুন বছর আমাদের
এমন অঙ্গীকারের শক্তি দাও

গত বছরটা ছিল আমার জন্য চরম বেদনাদায়ক একটা বছর। নানা ধরনের প্রতিকুলতার মধ্যেও যে আমি বেঁচে ছিলাম এবং আজ এই নতুন বছরের নতুন দিনের সকালে কলম হাতে বসে যে লিখতে পারছি সেজন্য আল্লাহর নিকট অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই।

অন্যান্য বছরের মত এ বছরটা আমি সেভাবে শুরু করতে পারি নাই। আগামী ০২/০১/০৩ থেকে আমার পরীক্ষা শুরু হবে বলে এলাকার কোনো অনুষ্ঠানেই আমি অংশগ্রহন করতে পারি নাই। ঘরের মধ্যেই ছিলাম। শুধু রাত ১২:০১ মিনিটে আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুকে একটা মিসকল দেই (টিএন্ডটিতে)। আশা করি সে আমার মিসকলটি পেয়েছে,  কারণ আমাদের মাঝে আগে থেকেই এমন পরিকল্পনা করা আছে।

এ বছরটা কেমন যাবে জানি না। কিছু কারন আছে যার জন্য হতে পারে এই বছর আমার জন্য সবচেয়ে কলঙ্কময় অথবা সবচেয়ে আনন্দনয়। মানুষ সবসময় আনন্দের পূজারী। আমিও মানুষ, হয়ত একটু পাগল শ্রেণীর। কিন্তু তবুও আমি মানুষ। তাই আমিও আনন্দ খুঁজি এবং একটু বেশি পরিমানেই খুঁজি। যার ফলে কোনো প্রকার আনন্দই আমাকে ধরা দেয় না। তাই আমার বেশীরভাগ সময়ই যায় আনন্দহীন। আমি এই নিরানন্দকে নিয়েই সারাদিন হাসিখুসি থাকার চেষ্টা করি। মন আমি কখনই বেশী খারাপ করি না। তবে যদি এরকম হত মন খারাপ করে থাকলেই সব দুঃখ দূর হয়ে যাবে, তবে আমি সারাদিন মন খারাপ করেই বসে থাকতাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় তা কখনই হবার নয়।

যাই হোক, অনেক কথাইতো লিখলাম। কিন্তু লিখাগুলো কেম যেন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। ঠিকমত গুছিয়ে লিখতেও পারছি না। এর কারন সম্ভবত পেটের তাড়না।  ঘড়িতে বাজে মাত্র সকাল ৭:২০। এত সকালেতো আমার ক্ষুধা লাগার কথা নয়! নতুন বছর, নতুন দিন, সবকিছুই কেমন যেন নতুনভাবে শুরু হয়। তাই হয়ত এই পেটের তাড়নাও নতুর কিছুর ইজ্ঞিত দিচ্ছে। নতুন যদি ভালো হয় তো খুব ভালো কিন্তু তা যদি হয় খারাপ কিছু......?

ভালো না খারাপ সেটা বলবে সময়। এখন আবার সেই অপেক্ষার পালা

আমার ডাইরী
০১/০১/০৩

তারপর রাক্ষুসী



তারপর যেতে যেতে
হঠাৎ দেখা এক নদীর সাথে
তারপর ?
নদী বলল আমায়
আরও কিছুদূর গেলে দেখতে পাবে
একটি কৃষ্ণচূরা বৃক্ষ
সেই বৃক্ষে আছে একটি মাত্র কৃষ্ণচূরা ফুল
যা পথ চেয়ে আছে শুধু তোমারই জন্য

তারপর?
তারপর যেতে যেতে
দেখা মিললো সেই  কৃষ্ণচূরা বৃক্ষের
দেখলাম, গাছে নেই কোন পাতা
নেই কোন ফুল
তবে কি নদী আমায় মিথ্যে বললো?
তারপর?
তারপর দেখলাম বৃক্ষের গোড়ায়
বসে আছে এক অনিন্দ সুন্দর রমণী
মায়াবতী মুখ, লাজুক হাসি
দীঘল কালো লম্বা চুল
তবে কি এই সেই কৃষ্ণচূরা ফুল?
তারপর?
তারপর আর কি,
সেই রাক্ষুসীটাই আমাকে গ্রাস করলো.........

রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৩

What is Life

Life is a challenge - meet it.

Life is a gift -  accept it.

Life is an adventure - dare it.

Life is a sorrow - overcome it.

Life is a tragedy - accept it.

Life is a duty -  perform it.

Life is a game- play it.

Life is a mystery - unfold it.

Life is song - sing it.

Life is an opportunity - take it.

Life is a promise - fulfill it.

Life is a struggle - fight it.

Life is a puzzle - solve it.


 সংগৃহীত
আমার ডাইরী
২০/০৪/২০০৩
 

ডাইরী থেকে: নববর্ষ

শুভ নববর্ষ। রবিন্দ্রনাথ হলে এখন একটা কবিতা লিখে পারতাম। 

অতীতে অনেক বিষয় লইয়া লিখালিখি করিবার অভ্যাস ছিল। অথচ এখন আমি সেই ক্ষমতা হারাইয়া ফেলিয়াছি। ধীরে ধীরে সকল ক্ষমতা হারাইয়া ফেলিতেছি। অতীতে ভাল ক্রিকেট খেলিতে পারিতাম, এখন আর পারি না। সময় বুঝি আমার ফুরাইয়া আসিয়াছে।


আমার ডাইরী
১৩/০৪/২০০৮

মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১০

জীবন

চারিদিকে বাড়ন্ত স্বপ্নরা হাসে, হতাশার ছবি আঁকা আমার এ বুকে।
চায়ের কাপ হাতে প্রতিদিন ভাবি, আমার এ জীবনটা ছাঁই মাখা আকাশের ছবি

মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১০

দেড়শো বিশ

এবার ঈদে পা ভেঙ্গে যাবার কারনে গ্রামের বাড়িতে যেতে পারিনি। তাই মায়ের কবরটাও দেখতে পারিনি। মনটা তাই ভাল ছিল না। দুদিন আগে আমার জন্মদিন ছিল। ভেবেছিলাম এবার জন্মদিনে মায়ের সাথে দেখা করে আসব। কিন্তু ইউনিভার্সিটির এক বেরসিক স্যার সেইদিন পরীক্ষা দেয়ে বসলেন। তাই আর গ্রামে যাওয়া হল না। মায়ের সাথে দেখা করাও হল না। মেজাজটা আরো খারাপ হয়ে গেল। 
অগ্যতা পরীক্ষা শেষ করেই গ্রামে যেতে হল। গ্রামের সরল মানুষগুলো আমাকে এত পছন্দ করে দেখতে ভালই লাগে। কেন পছন্দ করে জানি না। বরাবরের মত এবারো মায়ের সাথে আমি একা একাই বেশ অনেক্ষন বকবক করলাম। একতরফা ভালোবাসার মত একতরফা কথা। যার কোন মানে নেই। 
বিকেলবেলা যখন চলে আসব, তখন দেখা হয়ে গেল আমাদের গ্রামের বিজ্ঞ এক চাচার সাথে। উনি অত্যন্ত ভাল একজন মানুষ। কিন্তু উনার সমস্যা হল উনি কথা একটু বেশী বলেন। শুধু বেশী না অতিরিক্ত বেশী। আমার থেকেও বেশী বলেন। লক্ষ করলাম উনার হাতে বড় এক ইলিশ মাছ। সম্ভবত বাজার করে আসছিলেন। উনাকে দেখে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইলাম, কিন্তু তা সম্ভব হল না। উনি আমাকে দেখে মাছ হাতে নিয়েই আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। মাছ আমার শরীর স্পর্শ করল কিনা ঠিক বুঝতে পারলাম না।
কথা শুরু করে দিলেন। অনেক্ষন কথা চলতে থাকল। কিছুতেই কথা শেষ হচ্ছে না। এদিকে সন্ধা হয়ে আসছিল। শেষে বাধ্য হয়ে আমাকেই বলতে হল চাচা এবার আমাকে যেতে হবে। একথা শুনে অবশেষে তিনি বিদায় দিলেন। বিদায় নিতে নিতে প্রশ্ন করলাম চাচা অনেক বড় মাছ কত হল?
উনি বেশ তৃপ্তি নিয়ে হাসি মুখে উত্তর দিলেন দেড়শো বিশ। তারপর উনি চলে গেলেন। প্রথমে কিছুই বুঝলাম না। বেশ অনেক্ষন চিন্তা করার পর বুঝলাম, দেড়শো বিশ অর্থাত মাছটির দাম হল ১৭০ টাকা। হাঃ হাঃ হাঃ......
বাসে করে যখন ঢাকায় ফিরছিলাম আমার পাশের ভদ্রলোকটি বার বার আমার দিকে কেমন করে যেন তাকাচ্ছিলেন। মনে হয় মাছের গন্ধ উনার সহ্য হচ্ছে না।